নতুন ঘর পেলো বোয়ালমারীর-আলফাডাঙ্গার গৃহহীণ দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ১২১১টি পরিবার

বিশেষ প্রতিবেদক:
সরকারের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় দশ শতাংশের মধ্যে যাদের জমি আছে ঘর নেই, এমন অসহায় দুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তালিকা করে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে শুরু করেছে গৃহনির্মানের কাজ। দুই অর্থ বছরের ৪ হাজর ৪৬টি গৃহ(ঘর) নির্মাণ শুরু করে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্মকর্তারা। সরকার প্রতিটি ঘরের ব্যায় ধার্য করেছে ১ লক্ষ টাকা। ঘর নির্মাণ কাজের তদারকিতে আছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী অফিসারগণ। এই পর্যন্ত জেলা আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলার ১২১১টি বসতঘর নির্মাণ করে স্থানীয় প্রশাসন সুবিধা ভোগীদের বুঝিয়ে দিয়েছেন।

কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী ষাটোর্ধ মালঞ্চ, এর ওর কাছে চেয়ে চিন্তে খেয়ে-নাখেয়ে চলছিলো তার দিন। স্বামী শুকুর শেখ মারা গেছে বহু আগেই। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও ছিলনা তার। হঠৎ খবর এলো মালঞ্চর জন্য থাকার ঘর বানিয়ে দেয়া হব, হলোও তাই। দারিদ্রের সাথে লড়তে লড়তে ক্লান্ত এ নারী এখন আশ্বস্ত, থাকার জন্য নিজের একটি বাড়ী হয়েছে তার।

সরেজমিনে ফরিদপুরের বোয়লমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের মজুরদিয়া গ্রামে মালঞ্চর ওই নতুন ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া গেল তার মেয়ে সবুরনকে (৩২)। সে জানালো, তার মা এখনো আগের মতই গ্রামের এবাড়ী-ওবাড়ী কাজ করে খায়, তবে নিজের একটি স্থায়ী আশ্রয় হওয়ায় এলাকায় তাদের পরিবারের মর্যাদা বেড়েছে। একই ইউনিয়নের দুস্থ-কর্মহীন প্রৌঢ় পাশের গ্রামের আজিজার অথবা মজুরদিয়া বাজারের কাছে আরেক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারী সফুরার দিনও বদলেছে একই ভাবে। জেলার দুই উপজেলা আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারীর ১২১১টি পরিবারের মাঝে এখন খুশির বন্যা বইছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নতুন ঘর পেয়ে।

দেশের দারিদ্র্যকে জয় করার লক্ষ্যে গৃহনির্মাণের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তার ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে ফরিদপুর জেলায়। সরকার প্রধানের প্রতিশ্রুতির ঘর পেয়ে খুশি এই জেলার হতদরিদ্ররা। তবে জনপ্রতিনিধিদের দাবি সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমান আরো বাড়ানো।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, "সরকার প্রধানের এই প্রকল্পটি আমরা চেষ্টা করছি স্বচ্ছতার সাথে সঠিক ব্যক্তিদের (গৃহ-হীনদের মাঝে) বাসস্থান নির্মান করে দেওয়ার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গিকার ছিলো দেশের একজনও গৃহ-হীন থাকবেনা, সেই লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আশা করে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার অন্য সকল উপজেলায়তেই তালিকাভূক্তদের মাঝে ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।"

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায় এ বিষয়ে বলেন, ‘আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহহীণদের বসতঘর নির্মান কাজ শেষ করেছি। সুবিধা বঞ্চিতরা এই ঘর পেয়ে বেশ খুশি। চেষ্টা করেছি সময় মতো এবং গুণগত মান ঠিক রেখে ঘরগুলো তৈরী করতে । সে জ্য নিয়মিত তদারকি করতে হয়েছে।’ তিনি জানালেন, তার উজেলাতে ৮শ ৮০টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।'

এই উপেজেলার গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুল হাসান জানান, তাদের ইউনিয়নে যারা ঘর পেয়েছে তারা প্রকৃত হত-দরিদ্র। টেকসই ও মানসম্পন্ন একেকটি ঘর তৈরীর জন্য আরো বেশী বরাদ্দ দাবী করে বলেন, গৃহ নির্মান বাবদ যে অর্থ দেওয়া হচেছ তা পর্যাপ্ত নয়। এবরাদ্দ বাড়িয়ে কমপক্ষে দেড় লক্ষ টাকা করার সুপারিশ করেছেন এই জনপ্রতিনিধি।

বোয়ালমারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন এই প্রকল্পে ৩৩১টি ঘর নির্মান করেছেন। তিনি জানালেন 'ঘর নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি পরিবার পাচ্ছে একটি সেমিপাকা দোচালা টিনের ঘর ও টয়লেট। ঘর নির্মাণে ২১টি সিমেন্টের পিলার, ছয়টি জানালা।'

‘আমাদের ঘর-বাড়ী কিছুই ছিলো না , ছিলো না বেচে থাকাও কোনো অবলম্বন, সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে, অনেক খুশি আমরা এমনটি জানালেন বোয়ালমারীর পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের দরিদ্র বিধবা নারী হাফেজা বেগম।

আরেক সুবিধা ভোগী একই ইউনিয়নের জাহেদা বেগম জানালেন ‘শেখের বেটি আমাগো ঘর দিয়েছে, আল্লায় তারে আবার দেশ চালানো ক্ষমতা দেবে’ ।

বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল মিনা জানান, সরকার প্রধান দেশের সুবিধা-বঞ্ছিতদের মাঝে ঘর দিচ্ছেন। এই প্রকল্প সরকারের জন্য আর্শিবাদ। যে পরিবারে বসত-ঘর নেই সে ঘর পেয়ে আনন্দে আত্বহারা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম সাংবাদিক আরিফ ইসলাম।
প্রকাশক: ওয়াহিদ সোহেল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ইবনে সৈয়দ পিন্টু।
নির্বাহী সম্পাদক : রাজিব খান। বার্তা সম্পাদক : রুমন রহমান
যোগাযোগ : ১০৭/১, কাকরাইল, ঢাকা-১২১৭।
ইমেইল : AmarFaridpur@gmail.com