বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন ও ফরিদপুরের আলীপুরের অজানা ইতিহাস..শামীম হক

শামীম হক: মনে পরে গেলো সেই ৭০ দশকের শেষ বছর গুলির কথা। বঙ্গবন্ধু নেই, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দিশেহারা , স্বাধীনতা বিরোধী জাতির শত্রু রাজাকার-আলবদর ৭১ এর ঘাতক-ধর্ষকেরা  রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে জিয়াউর রহমানের কল্যানে প্রতিষ্ঠিত , মুক্তিযোদ্ধারা অত্যাচারিত , দেশ ছাড়া,ইতিহাস বিকৃতির মহাউৎসব চলছে , রেডিও-টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধু নিষিদ্ধ সেই সময় রাজনীতিতে এসেছি। আমাদের রাজনীতির প্রধান লক্ষই ছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সেই সময় রাজনীতিতে বৃহত্তর ফরিপুরের একমাত্র আলীপুর মহল্লার তৎকালিন তরুন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে আমি শামীম হক বৃহত্তর ফরিদপুরের ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত  সভাপতি ছিলাম।ওই সময় প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন বাজাই এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহত্তর ফরিদপুরে দুর্গ গড়ে তুলি। এই জন্য ৭৫ পরবর্তি স্বৈরাচারী সরকারের জেল জুলুম এবং অত্যচারের স্বীকার হই আমি। অনেকেই প্রান দিয়েছিলো, গুম হয়েছিলো , হত্যার শিকার হয়েছিলো। অল্পের জন্য আমি প্রানে বেচে গেলেও তারা আমাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।অবশেষে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিলো আমাকে।পাড়ি জমাতে হয়েছিল হল্যান্ডে। সেই দুর্দিনে ,বঙ্গবন্ধুর ভাষণ তো দূরের কথা বঙ্গবন্ধু নিজেই জাতীয় রেডিও-টেলিভিশনে নিষিদ্ধ ছিলেন। আজ তাঁর ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল। আমাদের দেশে জাতি বিরোধী একটা দূষিত রক্তের ধারা আছে এবং ছিল যারা আজও পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখে। এদের কাছে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় অপরাধ তিনি দেশের স্বাধীনতা এনেছেন। এই অপশক্তির চেতনা এমন , এরাই জাতির জনককে অবমূল্যায়ন করেছে কিন্তু বিশ্ববাসী আজ তাঁকে একজন মহান মানুষ হিসাবে মূল্যায়ন করলো।

নেত্রীর গতকালের সোহরাওয়ার্দীতে দেওয়া বক্তব্য শোনার পর আমার অনেকের নামই আজ মনে পড়ে যায় যাদের কাছে আমি এবং ফরিদপুরবাসী কৃতজ্ঞ।তাদের মধ্যে রয়েছেন,প্রয়াত ইমাম উদ্দীন আহমেদ,প্রয়াত এস এম নুরুন্নবী,প্রয়াত এ্যাড. সামচুদ্দিন মোল্লা,প্রয়াত হাসিবুল হাসান লাবলু,মাহাবুবুর রহমান খান,প্রয়াত রওশন,মনিরুল হাসান মিঠু,শহিদুল ইসলাম নিরু,প্রয়াত আব্দুল হাই মিয়া,প্রয়াত মোঃ সোলায়মান,বাবু বিপুল ঘোষ,শ্যামল ব্যানার্জী,মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ,প্রয়াত আশরাফুজ্জামান মজনু,কেন্দ্রীয় যুবলীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম মেম্বার মোঃ ফারুক হোসেন এবং মাইক ম্যান দুলাল। 

উল্লেখিত ব্যাক্তিদের নামগুলো আমার চিরদিন মনে থাকবে শুধু ক্রান্তিকালে তাদের সাহসী ভূমিকার জন্য।

প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম সাংবাদিক আরিফ ইসলাম।
প্রকাশক: ওয়াহিদ সোহেল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ইবনে সৈয়দ পিন্টু।
নির্বাহী সম্পাদক : রাজিব খান। বার্তা সম্পাদক : রুমন রহমান
যোগাযোগ : ১০৭/১, কাকরাইল, ঢাকা-১২১৭।
ইমেইল : AmarFaridpur@gmail.com