ফরিদপুর-১ আসনে আলোচনায় মনজুর, অস্বস্তিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ

কে এম রুবেল, ফরিদপুর।
ফরিদপুর-১ আসনে হঠাৎ করেই মনোনয়নের আলোচনায় আসা সাবেক সচিব মনজুর হোসেন বুলবুলকে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলছেন, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচন কঠিন হবে। দলের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত হবে না।
তারা বলছেন, মনজুর হোসেন তিন বছরের বেশি সময় আগে সরকারি চাকুরী থেকে অবসরে গেছেন। অথচ দীর্ঘ এই সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের কোনো কর্মকা-েই অংশ নেননি। দলে যোগ দেননি। তার কোনো নিজস্ব কর্মী নেই। দলে ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অপরিচিত। তাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী করা হলে পরাজয়ের ঝুঁকি থাকবে।

আলফাডাঙ্গার পানাইল গ্রামের বাসিন্দা বকুল হোসেন বলেন, এলজিআরডি সচিব থাকাকালেও মনজুর হোসেন এলাকার মানুষের জন্য কিছুই করেননি। এমনকি এলাকার উন্নয়নেও কোনো কাজে আসেনি। এলাকায় তিনি অপরিচিত মুখ। এখন নির্বাচনের আগে তিনি মনোনয়নের জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এমন সুযোগ সন্ধানী মানুষকে কেউ ভোট দেবে না।

বোয়ালমারীর রূপাপাত ইউনিয়নের বাসিন্দা আসগর মোল্যা বলেন, মনজুর হোসেন নামে যে কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান, এ কথা কয়েকদিন হয় শুনতেছি। তাও মনোনয়ন কেনা-বেঁচার পর। বুঝতে শেখার পর থেকে আওয়ামী লীগ করি। নৌকায় ভোট দেই। কিন্তু যাকে আমরা চিনি-ই না তাকে ভোট দিবো কীভাবে?

মধুখালীর বাগাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, দু-একদিন হয় মনজুর হোসেনের নাম শুনতেছি। আগে তো কোনোদিন তাকে মাঠে দেখিনি। হঠাৎ করে কাউকে নৌকা দিলেই জয়ী হওয়া সম্ভব না। এখন আর আগের অবস্থা নেই। নৌকা মার্কা নিয়ে আসলেই জিতে যাবে, এই ধারনা ভুল। এখন বিএনপিও মাঠে আছে।

মধুখালীর রায়পুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা শেখ মুসলেউদ্দিন বলেন, আলফাডাঙ্গায় আমার আত্মীয় বাড়ি। শুনেছি তিনি যখন এলজিআরডি সচিব ছিলেন তখন নিজের গ্রামের রাস্তাও পাকা করতে পারেননি। সারাজীবন ঢাকা থেকেছেন। এখনো ঢাকায় থাকেন। এমপি আব্দুর রহমান দুর্নীতি-অনিয়ম করে বিতর্কিত। মানুষের মধ্যে তার নেতিবাচক ভাবমূর্তি আছে। মনজুর হোসেনও তো একই। তিনি সচিব থাকা অবস্থায় কিংবা পরে কোনোদিন কারো কোনো উপকার করেছেন এমন নজির নেই। এমন লোককে প্রার্থী করলে আওয়ামী লীগ ভুল করবে।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম আকরাম হোসেন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার বলায় তো মনেনায়ন ঠেকবে না। তবে শেখ হাসিনা ওনাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন কঠিন হবে। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে মনোনয়ন দিলে এতটা বেগ পেতে হতো না।’

বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিকুল মীরদাহ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উনি (মঞ্জুর) একজন অপরিচিত মানুষ। এ জাতীয় মানুষকে মনোনয়ন দিলে নেতা-কর্মীরা গ্রহণ করতে পারবেন কি-না বুঝে উঠতে পারছি না। এ সিদ্ধান্ত ভালো হবে না।’
প্রসঙ্গত, মনজুর হোসেন বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে আছেন। রাষ্ট্রীয় সুবিধাভোগী এই পদে থেকে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন কিনা, এ নিয়েও প্রশ্ন আছে।

প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম সাংবাদিক আরিফ ইসলাম।
প্রকাশক: ওয়াহিদ সোহেল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ইবনে সৈয়দ পিন্টু।
নির্বাহী সম্পাদক : রাজিব খান। বার্তা সম্পাদক : রুমন রহমান
যোগাযোগ : ১০৭/১, কাকরাইল, ঢাকা-১২১৭।
ইমেইল : AmarFaridpur@gmail.com