‘অসহায় নারী’ থেকে দাপুটে নেতা শেখ হাসিনা

আরিফ ইসলাম:বাবা, মা, ভাই, বোনসহ সব স্বজনকে হারানোর ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে দেশে ফেরা শেখ হাসিনা এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশে ফেরার পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। ৩৬ বছর আগে দেশে ফেরা এক ‘অসহায় নারী’ এখন সারা বিশ্বেই এখন আলোচিত রাজনীতিক। সমসাময়িক যুগে বাংলাদেশের অন্য রাজনৈতিকের তুলনায় এখন তাকে নিয়েই আলোচনা বেশি।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার আগে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বিদেশ যান। আর এই সিদ্ধান্তই বাঁচিয়ে দেয় তাদের দুই জনকে। রয়ে যায় বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের প্রধান পুরুষের রক্তের ধারা।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জার্মানি থেকে ভারতে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। এরপর সেখানে ছয় বছর ছিলেন রাজনৈতিক আশ্রয়ে। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ তাকে সভাপতি নির্বাচন করে আর ওই বছরের ১৭ মে তিনি দেশে ফেরেন।

দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার দিনগুলো ছিল খুবই কঠিন। জিয়াউর রহমানের কঠোর শাসনের দিনগুলোতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে তিনি ঢুকতেও পারেননি। পরে বাড়ির বাইরে মোনাজাত করে দোয়া পড়াতে হয়েছে। এরপর জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর নানা ঘটনাপ্রবাহে ক্ষমতা গ্রহণ করেন আরেক সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জীবনের আরেক কঠিন বাস্তবতা শুরু শেখ হাসিনার।

সেনা শাসন থেকে দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে আবার মাঠে নামে আওয়ামী লীগ। নয় বছর ধরে রাজপথে নেতৃত্ব দেন শেখ হাসিনা। ১৯৯০ সালে পতন হয় এরশাদ সরকারের। পরের বছরের জাতীয় নির্বাচনে হেরে গেলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জিতে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরে তার নেতৃত্বেই।

এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে আবার হারের পর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয় আসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই। ২০১৪ সালের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে দলের ভেতর অন্যরা যখন হতাশ হয়ে পড়েছিলেনম, তখন তিনিই সাঁতার কেটেছেন বিরুদ্ধস্রোতে। নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসে। ‍দুই দফায় মিলে গত আট বছর ধরেই এখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ।২০০৮ সালের তুলনায় বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে। বাংলাদেশকে নিয়ে এখন অনেক বেশি আলোচনা হচ্ছে সারা বিশ্বেই।

তবে শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থায় পৌঁছানো সহজ ছিল না। তাকে চট্টগ্রামে গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে, ঢাকায় প্রকাশ্য জনসভায় চালানো হয়েছে গ্রেনেড হামলা। সব মিলিয়ে ২০ বার হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে সব সময় বিরোধী দল থাকবে, শেখ হাসিনারও বিরোধী মানুষ থাকবে। কিন্তু এখন রাজনৈতিক শেখ হাসিনার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।’

গত আট বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন-এটা এখন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও অস্বীকার করেন না। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, সরকারের চেয়েও ব্যক্তি শেখ হাসিনা বেশি জনপ্রিয়।অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি বলবো, শেখ হাসিনা যে জায়গায় এসেছে, তিনি তার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শীতা ও সাধারণ মানুষের ভালবাসায় এই যায়গায় এসেছেন। বেশিরভাগ মানুষের ভালবাসা এবং আস্থার প্রতীক এখন তিনি। তার রাজনৈতিক দূরদর্শীতা এবং দেশ পরিচালনায় দক্ষতার কারণেই তিনি এখানে এসেছেন। এখন দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে, এটা প্রত্যেকে স্বীকার করবেন। উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। যারা তার বিরোধীপক্ষ ছিল, তারা আস্তে আস্তে চুপসে গেছে, তাদের গলার স্বর এখন নরম হয়ে আসছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে সাহস সঞ্চার করে বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশে ফেরার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথক্রমায় তিনি বাংলাদেশের মানুষকে সাহস জুগিয়েছেন। তিনি এখন দক্ষিণ এশিয়া, তথা বিশ্বের একজন অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।’

ইদানীং সরকার এবং শেখ হাসিনার কড়া সমালোচকদের একজন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরা শেখ হাসিনা আর বর্তমান শেখ হাসিনার মধ্যে তুলনা করতে বললে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন তখন তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্ছার ছিলেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লড়াই করেছেন। রাজপথে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা দিন বদলের স্লোগান দিয়ে রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু যেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন সেই প্রতিশ্রুতি অনেকটাই বাস্তবায়ন করেছেন।’

তবে ২০১৪ সালে বিরোধীদলহীন নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র আরও টেকসই হলে উন্নয়নও আরও টেকসই হতো বলে মনে করেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু সদূর প্রসারী চিন্তা করলে এই উন্নয়ন টেকসই হবে না যদি গণতন্ত্র মজবুত না হয়।’আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের ধারার সূচনা হয়েছিল। তাঁর দেশে আসার মাধ্যমে দেশের মানুষ হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরে পাওয়া, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবং নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হয়েছিল।খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা ফিরে এসেছিল বলেই বাংলাদেশে আইনের শাসন, উন্নয়ন অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে পরিচিত হয়েছে। তাই আমি মনেকরি সেদিন যদি নেত্রী দেশে ফিরতে না পারতেন, তাহলে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হতো।’

 

সকল প্রকার কোমল পানিয় বর্জন করুন.জেনে নিন এর কুফল

সারা বিশ্বে কোমল পানীয়র তাণ্ডব চলছে। আমেরিকানরা প্রতি বছর ২০ বিলিয়ন গ্যালন সোডা বা গড়ে ৮০০ বোতল কোমল পানীয় পান করে। বাংলাদেশের মানুষও কোমল পানীয় (কোক, পেপসি, সেভেন আপ ইত্যাদি) পানে কম যায় না। কি আছে এসব পানীয়তে? কত খারাপ ও ক্ষতিকর এসব পানীয়? আমরা বেশি কিছু জানি না। জানলে অবশ্যই এসব পানীয় মানুষ পান করত না। বলি শুনুন। ৩৫৫ মিলি কোমল পানীয়তে রয়েছে ১২ চামচ চিনি বা ক্ষতিকর উচ্চ মাত্রার ফ্রুকটোজ কর্ণ সিরাপ। এই সিরাপ তৈরি হয় জেনেটিক্যালি মডিফাইড শস্য থেকে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে তুমুল বিতর্ক রয়েছে।

মাত্রাতিরিক্ত চিনি হার্টের রক্তনালিতে প্রবাহ সৃষ্টি করে যা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। রয়েছে ফসফোরিক অ্যাসিড যা পানীয়র পিএইচকে ৩.২ তে নামিয়ে আনে এবং প্রচণ্ড অ্যাসিডিক এই পিএইচ শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। ফসফোরিক অ্যাসিড না থাকলে যে পরিমাণ চিনি পানীয়র মাধ্যমে আমরা গ্রহণ করি তা বমি হয়ে যেত। কোমল পানীয়তে শিশুর দাঁত রাখলে তা দুয়েক দিনে গলে যায়।

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোমল পানীয় পান করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। ৬ লাখ মানুষের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়, অতিরিক্ত চিনি, ফসফোরিক অ্যাসিড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট, কেরামেল রং, ক্যাফেইন ও আরো অসংখ্য অজানা উপকরণসমৃদ্ধ কোমল পানীয় পান করে প্রতি বছর এক লাখ ৩১ হাজার মানুষ ডায়াবিটিস, ৪৫ হাজার হার্ট অ্যাটাক এবং সাড়ে ছয় হাজার ক্যান্সারে মারা যায়।

কোমল পানীয় পান করে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শিশু ও বয়স্ক মানুষের মধ্যেও ওজন বাড়ার প্রবণতা মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে। উচ্চ মাত্রার ক্যাফেইন স্নায়ু উত্তেজক যা ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে। ক্যাফেইন রক্তচাপ ও আসক্তি বাড়ায়। শিশুদের কোমল পানীয় পান থেকে বিরত রাখুন। কোমল পানীয় শিশুদের দাঁত নষ্ট ও শরীরের ক্ষতি করে। কোমল পানীয় অনেক ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস বা ধ্বংস করে। টিনজাত কোমল পানীয় ভয়ংকর। কারণ, টিনের ভেতরের দেয়ালে থাকে বিসফেনল যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

অ্যাসপারটেমসমৃদ্ধ জিরো ক্যালরির কোমল পানীয় আরো খারাপ। অ্যাসপারটেমসমৃদ্ধ কোমল পানীয় ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই কমোড ও বেসিনের দাগ তোলার জন্য ডিটারজেন্ট হিসেবে কোক-পেপসি ব্যবহার করে। কোমল পানীয় বর্জন করুন, প্রচুর পানি পান করুন। আপনারা সুস্থ থাকুন।

প্রিয় বুুলবুল ভাই আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা.আরিফ ইসলাম

আরিফ ইসলাম: বুলবুল ভায়ের সাথে পরিচয় খুব বেশি দিনের নয়। তবে ১২ টি বছরে এই মানুষটির কার্যক্রম দেখে আমার মনে হয়েছে তিনি একজন প্রকৃত কলম যোদ্ধা। সময়ের এই সাহসী সৈনিক সাংবাদিকদের ন্যয্য দাবী আদায়ে বদ্ধপরিকর। যতদুর মনে পড়ে আমাদের হোম ডিষ্ট্রিক্ট ফরিদপুরে গৌতম দাস খুন হবার পরে আমাদের আন্দোলন সংগ্রামে যে কয়েকটি মানুষ আমাদের সাহস জুগিয়েছেন তাদের মধ্যে বুলবুল ভাই অন্যতম। গৌতমের শোক সমাবেশে অংশগ্রহন করে এবং ঝাঝালো বক্তব্য দিয়ে ফরিদপুরকে আন্দোলনের শহরে পরিনত করেছিলেন। শোক সমাবেশটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম আমি নিজে। 

আবেদ খান, গোলাম সারোয়ার সহ আরো অনেকেই ঐ সময় ফরিদপুরে এসেছিলেন। এছাড়াও যখনই এই মানুষটির কাছে কোন কাজ নিয়ে গিয়েছি তিনি কখনোই ফিরিয়ে দেন নি বা বিমুখ করেন নি যদি আমার স্মরণ শক্তি লোপ পেয়ে না থাকে। ফলে আমার হৃদয়ের গহিনে বুলবুল ভায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক বিরাট পাহাড়রের সৃষ্টি হয়েছে অনেক আগে থেকেই. সেটি নির্দিধায় বলা চলে। 

বুুলবুল ভাই আপনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। সাংবাদিকদের চরম দুঃসময়ে বিগত দিনের মত আগামী দিনেও আপনার বলিষ্ঠ নের্তৃত্বের প্রত্যাশা করে শেষ করছি। ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।

সাংবাদিক আরিফ ইসলাম

চেয়ারম্যান.

আমার ফরিদপুর প্রেস এ্যান্ড পাবলিকেশন্স লিমিটেড।

৩০ জুলাই,২০১৬ ইং

স্পেশাল স্টোরীঃ জীবন হারিয়ে গেলে এমন জীবন দ্বিতীয়বার জন্ম নেবে না..আরিফ ইসলাম

আরিফ ইসলাম: বাংলাদেশ এর একজন তরুন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর নাম জীবন। পুরো নাম যশোদা জীবন দেবনাথ। জীবনের জীবনে বিন্দুমাত্র ক্ষতি হলে দেশবাসী খুব সহজে মেনে নেবে না। জীবন একজন ফ্রেস ও ক্লিন ইমেজের মানুষ। তার রয়েছে অসংখ্য শুভাকাঙ্খি। তার হাতের সহযোগিতার ছোয়া বা স্পর্শ পায়নি, ফরিদপুরে এমন কোন প্রতিষ্ঠান খুজে পাওয়া মুশকিল। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার অবহেলিত এক জনপদ ধোপাডাঙ্গা চাদপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম জীবন দেবনাথের। দারীদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে জীবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে শুরু করে ব্যবসা। সততা ন্যায় নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করে জীবন তার জীবনে সফলতা অর্জন করে। এরই স্বিকৃতি স্বরুপ জীবন অত্যন্ত অল্প বয়সে সি. আই. পি’র মর্জাদা অর্জন করে। কমার্শিয়াল ইম্পরটেন্ট পার্সন এর খেতাব অর্জন করার কারার পর সারা দেশে জীরনের নামটি একটি সাফল্যের নামে পরিচিতি লাভ করে। দুখী দরিদ্র মানুষের এক নির্ভরযোগ্য ব্যাক্তি হিসেবে জীবন নিজেকে খুব সহজেই পরিচিত করে তুলেন। সদা হাস্যজ্জল প্রানবন্ত এই মানুষটির দ্রুত সাফল্য লাভের বিষয়টি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি একটি স্বার্থন্বেসী মহল বা গোষ্ঠি। জীনের জীবনে কলঙ্ক লেপনের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য একটি এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামে ঐ গোষ্ঠি। এরই সূত্র ধরে গাজীপুরের ডাচ বাংলা এটিএম বুথে টাকা ভরতে গেলে সেখান থেকে ডাকাত দল জীবনের প্রতিষ্ঠানের ২ কোটি টাকা ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ এই ঘটনায় ডাকাতদের গ্রেফতার করতে পারলেও উদ্ধার করতে পারেনি ডাকাতি হওয়া টাকা। এর পর বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পুর্ন উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে জীবনের বিরুদ্ধে মন গড়া রিপোর্ট প্রকাশ করতে থাকে। যদিও তা একজন লোককেও বিশ্বাস কারতে পারেনি।

এর পরেও থেমে নেই ঐ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠিটি। এবার মোটা অংকের চাদার দাবীতে জীবন কে প্রান নাশের হুমকী প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু থেমে যাওয়ার ছেলে জীবন না। জীবনের এই হুমকীর ব্যাপারে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করলেও পুলিশ গত ৪ দিনে একজন সন্ত্রাসীকেও আটক করতে পারেনি। জীবনের প্রাননাশের হুমকীর ঘটনায় সারা দেশে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। দেশের সুশীল সামজ , ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছেন। পাশ্ববর্তি একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র জীবনের এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করছে।

জীবনের বক্তব্য , “আমাকে হুমকী ধামকী দিয়ে কোন লাভ নেই। আমার লক্ষ্য উদ্দেশ্যর দিকে আমি অবিচল। কেউ যদি মানে করে জীবনের টাকা ডাকাতি করে, জীবনের বিরুদ্ধে মিথ্য বানোয়াট রিপোর্ট লিখে এবং প্রান নাশের হুমকী প্রদান করে জীবনের পথ চলা থামিয়ে দেবে তবে তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছে। কঠোর পরিশ্রম আর অসীম সাহস নিয়ে সততার সাথে ব্যবসা বানিজ্য করে আজ আমি এখানে পৌছেছি সুতরাং থেমে যাওয়ার ছেলে আমি নই। আমার সাথে আমার বাবা মায়ের অশির্বাদ রয়েছে। আমার সাথে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রয়েছে, রয়েছে সাংবাদিক ভায়েরা তাই আমি কোন হুমকী ধামকী পরোয়া করি না”।

 

এদিকে জীবনের জীবনে বিন্দুমাত্র ক্ষতি হলে তা দেশবাসী কোনভাবেই মেনে নেবে না বলে ব্যবসায়ী নের্তৃবৃন্দ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, জীবন শুধু একজন সি আইপি নন তিনি বাংলাদেশের রোল মডেল। জীবন আজ অসংখ্য তরুনের এক অন্যতম আদর্শ। তার আদর্শই আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তাকে অনুসরণ করে অনেক তরুন ব্যবসায়ী সফলতার চুড়ায় পেছৈার স্বপ্ন দেখে। সুতরাং দেশের প্রয়োজনে সমাজের প্রয়োজনে জীবনের নিরাপত্তা দিতে হবে। জীবনের গায়ে ফুলের আচরও সহ্য করবে না এই দেশের কোটি কোটি মানুষ। আর সে কারনেই সরকারকেও এই ব্যাপারে গুরুত্বপুর্ন ভ’মিকা পালন করতে হবে। কারন জীবন হারিয়ে গেলে এমন একজন জীবন দ্বিতীয় বার আর ফিরে আসবে না। ২৬ জুন,২০১৬ ইং

 

লেখকঃ সাবেক সেক্রেটারী,ফরিদপুর প্রেসক্লাব

ফাউন্ডার প্রেসিডেন্টঃ ফরিদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটি

জেলা প্রতিনিধিঃ দৈনিক আমার দেশ

প্রধান সম্পাদকঃ আমার ফরিদপুর

স্যালুট পাওয়ার যোগ্য একজন মানুষ সাংবাদিক নাসের...আরিফ ইসলাম

নাম তার নাসের. পুরো নাম আবু নাসের হুসাইন। সালথার এক পরিচিত নাম। আমার ফরিদপুর এর জন্মলগ্ন থেকে নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে সাংবাদিকতা করে আসছে এই মানুষটি। ভয় ডর না করে অবিরাম লিখে যাচ্ছে সংবাদ। এমন একটি দিন খুজে পাওয়া যাবেনা যে, আমার ফরিদপুর অনলাইন নিউজ পেপারে নাসেরের নিউজ নেই। সমাজের অসংগতি দ্বিধাহীন ভাবে তুলে ধরে যাচ্ছে আমার ফরিদপুর এর মাধ্যমে। তার লেখা নিউজে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে গুটি কয়েক মানুষ আর উপকৃত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ, গোটা সমাজ এবং দেশ। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারনে অনেকের কাছে একটি প্রিয় নামে পরিনত হয়েছে নাসেরের নাম। আবার কারো কারো কাছে এটি একটি আতংকের নাম নাসের যদিও তাদের সংখ্যা একেবারেই নগন্য। বলতে দ্বিধা নেই যে, নাসেরের কারনে আমাদের পত্রিকার একটি বিশিাল পাঠক শ্রেনী তৈরি হয়েছে সালথা এলাকায় এবং সালথার যেকোন নিউজে ঝড়ের গতিতে লাইক পড়ে এবং শেয়ারও হয় প্রচুর। এই কৃতিত্ব আমাদের নয় নিশ্চয়ই নাসেরের।

কারো সুপারিশে নয় বা তোষামোদি করে নয় বরং নিজের যোগ্যতায় একটি উপজেলা পর্যায়ে কাজ করে স্টাফ রিপোর্টারের মর্যাদা অর্জন করেছে এই নির্ভিক সাংবাদিক নাসের।আমার ফরিদপুর পরিবারের একটি অবিচ্ছেদ্দ অংশে পরিনত হয়েছেন আজ সাংবাদিক আবু নাসের হোসাইন।

অভিনন্দন নাসেরকে সেই সাথে স্যালুট জানাই আপনাকে কারন, আপনি সত্যিই স্যালুট পাওয়ার যোগ্য একজন মানুষ স্যালুট পাওয়ার মত একজন সাংবাদিক। ভালো থাকবেন নাসের ভাই আপনার পথচলায় পাশে আছি সব সময়।

আরিফ ইসলাম.এডিটর ইন চীফ

আমার ফরিদপুর.তাং-২১ জুন,২০১৬

মন্তব্য প্রতিবেদনঃ অবশেষে জয় হলো এলজিআরডি মন্ত্রীর.অভিযোগকারীদের মুখে চুনকালি লেপন..আরিফ ইসলাম

 

আরিফ ইসলাম : অবশেষে ফরিদপুরের গণমানুষের নেতা এল জি আরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনেরই জয় হলো। আর এখানে পরাজিত হলেন তারা যারা ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর নামে একটি মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগকে সামনে এনে শুধু ফরিদপুর নয় বরং রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি নষ্টের পায়তারা চালিয়েছিলেন। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে একটি মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জোড়ালো সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে অবিরাম মনগড়া ভুয়া অপপ্রচার চালিয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত আমাদের কোন কোন সহকর্মীও গায়ে পড়ে বিষয়টিকে ঘিরে কুৎসা রটনার চেষ্টা করেছেন। সত্যটাকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মত ঢেকে রেখে মিথ্যাটিকে খাড়া যুক্তি দিয়ে কল্পনার আকাশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। কি হবে তাদেও এখন। অরুন গুহ সত্যিই যদি কোন দিন আর দেশের মাটিতে ফিরে না আসতেন তবে হয়তো অনেকেই স্বাভাবিকভাবে মিশ্যাটিকে বিশ্বাসও করে নিতেন। কারন একটি মিথ্যা কথা অনেকবার বললে তা কখনো কখনো সত্যে রুপারিত হয়। তবে অুরন গুহ ফিরে আসায় সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন হয়ে গেল বেরিয়ে এলা সত্যের আলো। আর এই আলোয় জ্বল জ্বল করে জ্বলবে ঢেকে রাখা সত্যটি ফরিদপুর তথা সারা দেশের মানুষের সামনে। এই বিষয়টিকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগকারীদের এবং আন্দোলন এর হুমকীদাতাদের স্থান হবে নিশ্চিত এক অন্ধকারে।

যাকে ঘিরে এবং যার একটি বাড়ির ঘটনাকে সামনে নিয়ে তাওয়া গরমের চেষ্টা করেছেন এত দিন যারা তারা এখন কি বলবেন?। যাকে সামনে নিয়ে এবং যে ঘটানটিকে কেন্দ্র কওে অভিযোগকারীদের অভিযোগ ছিল ১) জমিদার অরুন কুমার গুহর কাছ থেকে জোর করে তার বাড়ি এলজিআরডি মন্ত্রী দখল করেছেন, ২) জমির ন্যয্য মুল্য থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে ৩) তার মেধাবী মেয়ে সহ তাকে দেশ ছাড়া করা হয়েছে ফলে সে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে ৪) কখনো কখনো বলা হয়েছে অরুন গুহকে গুম করা হয়েছে?

এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রমান করে সব সন্দেহর অবসান ঘটিয়ে অরুন গুহ তার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ভারতের একটি বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তি করে গত ২৮ আগষ্ট বাংলাদেশে আসার পর অভিযোগকারীদের মুখে এক প্রকার চুনকালি লেপন করে দিলেন অরুন গুহ। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে অরুন গুহ অভিযোগকারীদের সম্পর্কে বলেছেন, “ যাদেরকে সারাজীবনে বিপদ আপদের দিন কোন দিন কাছে পাইনি তারা আজ আমার বন্ধু সাজার চেষ্টা করেছেন। আমার পৈত্রিক জমি আমি নিজে বিক্রি করেছি আমার প্রয়োজনে আমি জমি বিক্রি করেছি ন্যায্য মুল্যে বিক্রি করেছি। অথচ এই গোষ্ঠি তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাকে আমার পরিবারকে নিয়ে অজ¯্র মনগড়া মিথ্যা কথা বলেছে। তারা আমার জমির বৈধ ক্রেতা মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছে যা মোটেও গ্রহনযোগ্য নয়”।

অরুন গুহ দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, “আমি বাংলাদেশী বাংলাদেশ আমার প্রান আমি কেন এই দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বসবাস করতে যাবো। আমি ভারতে অনেকবার গিয়েছি কিন্তু স্থায়ীভাবে কোন দিন থাকতে যাইনি। আমার জন্মভুমি বাংলাদেশ এবং আমার মৃত্যুও হবে এই বাংলাদেশে। ঝিলটুলীর পুরনো বাড়ি বিক্রি করেছি কিন্তু সেখানে রাজেন্দ্র কলেজের প্রধান ফটকের সামনে আমার আরো জায়গা রয়েছে যেখানে আমি নুতন করে বাড়ি করবো। আমার সম্পদ যদি আমি আমার প্রয়োজনে বিক্রি করি তবে সেখানে কার কি করার আছে”।

অরুন গুহ সংবাদ মাধ্যমের সাথে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য যারা অপচেষ্টা চালিয়েছেন তাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “ওরা শুধু আমার বা মন্ত্রী মহোদয়ের শত্রু নন ওরা দেশের শত্রু। আর এই শত্রুদের সম্পর্কে সব সময় সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে বেড়িয়ে আসবে সব সত্য এখানে মিথ্যার কোন ঠাই নেই”।

অরুন গুহ আরো বলেছেন, যতসব অপপ্রচার। ডাহা মিথ্যা কথা। যারা এসব বলেছে, অপপ্রচার করেছে নিশ্চয়ই তাদের কোনো কুমতলব আছে। ভারতে গিয়েছিলাম আমার একমাত্র মেয়ে তুলি মজুমদারের এম.ফিলে ভর্তির জন্য। সেখানকার গুজরাট প্রদেশের বরোদার এম এস বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়ে ভর্তি হয়েছে গত ২০ আগস্ট। সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরার পর দু-একদিন আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বাংলাদেশে ফিরলাম আজ (শুক্রবার ২৮ আগস্ট)। আমি মোটেও দেশত্যাগ করিনি, দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার প্রশ্নই আসে না। দেশত্যাগের কল্পকাহিনি রচয়িতা কারা? জানতে ইচ্ছে করছে।

সব বানোয়াট, উদ্ভট কথা। এটি পরিকল্পিত মিথ্যাচার। আমি পৈতৃক বাড়িটি ন্যায্যমূল্যে এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে বিক্রি করেছি। দখলের প্রশ্ন আসছে কোত্থেকে? আর রানা দাশগুপ্তকে আমি চিনি না। কোনোদিন দেখিনি। জীবনেও কথা হয়নি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কারো সঙ্গে জীবনে কখনো আমার কথা হয়নি। তাদের কাউকে আমি, আমার স্ত্রী, কন্যা এসব অভিযোগ করিনি। কাউকেই করিনি। অভিযোগ করার কোনো প্রশ্নও ওঠে না। তাহলে উপযাচক হয়ে এসব মিথ্যাচারের মানে কি?

আমি কিন্তু বারবার বলছি, আমি স্বেচ্ছায় বাড়িটি বিক্রি করেছি। ন্যায্যমূল্য পেয়েছি। আমার আইনজীবী সুবল সাহা এবং আমি মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে বাড়িটি বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যাই। মন্ত্রী মহোদয় কিন্তু প্রথমে কিনতেও চাননি। এখানে জোরাজুরির প্রশ্ন আসছে কেন? কারা রটাচ্ছে এসব? তাদের নিশ্চয়ই অন্য মতলব আছে। ফরিদপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আমি যখন জমি বিক্রির রেজিস্ট্রেশনের জন্য যাই তখন আমার আইনজীবী সুবল সাহা আমার সঙ্গে ছিলেন। এছাড়া ফরিদপুরের নামকরা আইনজীবী নারায়ণ চন্দ্র দাসকেও আমি সঙ্গে নেই সাক্ষী হিসেবে। আইনজীবী দেবাশীষ সাহাও সঙ্গে ছিলেন আমার। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না কেন এসব কথাবার্তা ছড়ানো হয়েছে? আমি বলব, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে।

বিক্রির চিন্তা ছিল আগে থেকেই। কারণ আমার নগদ টাকার প্রয়োজন ছিল বহুদিন ধরে। আমি অনেকদিন ধরে কার্যত বেকার জীবন কাটাচ্ছিলাম। প্রায় একযুগ ধরে বাড়িটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা ছিল। ফলে আগে ইচ্ছে থাকলেও বিক্রির সুযোগ ছিল না। বাড়িটির বড় অংশ সরকারের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ছিল। তাই বিক্রির সুযোগ পাইনি। আইনি লড়াইয়ে আমি পূর্বপুরুষের বাড়িটির মালিকানা ফিরে পাই। বাড়িটি বহু পুরনো, কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত। এটি রক্ষণাবেক্ষণের মতো আর্থিক সক্ষমতা আমার ছিল না। তাই নিকটবর্তী প্রতিবেশী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে বিক্রি করি। তাঁর ওপর আমার অগাধ আস্থা। আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক প্রায় শত বছরের। মন্ত্রী মহোদয়ের শহরের পৈতৃক বাড়ি এবং আমি যে বাড়িটি বিক্রি করলাম সেটি একেবারে লাগোয়া। কোন দেয়াল নেই দুই বাড়ির মধ্যে। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠা আমাদের। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওনার পিতা খন্দকার নুরুল হোসেন (নুরু মিয়া) আমাদের গোটা পরিবারকে আগলে রেখেছেন। আগে পরে যখনই আমরা কোনো বিপদে পড়েছি তখনই নুরু মিয়া চাচা, মোশাররফ ভাই ও তাঁর অন্য ভাইয়েরা আমাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। অন্য কাউকে বাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দিতেও ইচ্ছে করেনি। কারণ, ফরিদপুর শহরে এমন মানুষও তো আছে যে, কথায় কাজে মিল নেই। সেই ধরনের মানুষরা কিন্তু আমাদের জমি নানা কায়দায় নেওয়ার চেষ্টাও করেছে। অন্যকে মালিক সাজিয়ে ভুয়া দলিলও করে রেখেছিল। আমি দিনের পর দিন এসব মামলা লড়েছি। এরপর আইনি লড়াইয়ে জিতেছি। যারা আমার পূর্ব পুরুষের জমির দিকে কুনজর দিয়েছিল তারা তো মোশাররফ সাহেবেরই বিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি। সেই চক্র যখন আমায় নানাভাবে ভোগানোর চেষ্টা করেছে কই তখন তো কাউকে পাশে পাইনি খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তাঁর পরিবার ছাড়া।

কোনোদিন আমাদের কোনো কাজে যারা আসেননি, বিপদে যাদের কোনোদিন পাশে পাইনি সেরকম কিছু লোক, গোষ্ঠী এখন বন্ধু সাজতে চাইছেন। এটা রহস্যজনক। আর মিথ্যা রটিয়ে, কাল্পনিক কাহিনি প্রচার করে মোশাররফ ভাইয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টাকারীরা কার স্বার্থ হাসিল করতে চান?

আমি পুরনো বাড়ি বিক্রি করেছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই সেটি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র আমায় উঠতে হয়েছে। আপাতত ভাড়া বাড়িতে আছি। রাজেন্দ্র কলেজের সামনে আমার অন্য জমি আছে। সেখানে বাড়িও করব। খুব শিগগিরই করব।

আগেও তো মন্ত্রী মহোদয়ের বাড়ির সঙ্গেই ছিলাম। এখনো আছি। সমস্যা কি? আর এটা আপনাদের বোঝা উচিত আমি পুরনো বাড়িটি বিক্রি করে সেখানে তো আর অবস্থান করতে পারি না। বহু বছর আগের তারিখে আমার জমির ভুয়া দলিল যে চক্রটি করে রেখেছিল তাদের কেউ কেউ এ বছরের প্রথমদিকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। আমি চেয়েছি, এমন একটি জায়গায় আপাতত বাড়ি ভাড়া করি যেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাজনিত সুবিধাও আছে। অথচ এটাও দোষ বলে প্রচার হচ্ছে! আমি পরিষ্কারভাবে বলছি, মোশাররফ ভাই ও তাঁর পরিবারের চেয়ে বড় শুভাকাক্সক্ষী, বন্ধু শুধু ফরিদপুর কেন গোটা বাংলাদেশে আমার নেই। আজ যারা বন্ধু সাজার ভান করছেন, তারা অন্য কোনো মতলব আঁটছেন, এটা বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না আমার।

আমার পারিবারিক মন্দির ছিল। এটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কোনো মন্দির ভাঙা হয়নি। রাজেন্দ্র কলেজের সামনে আমার অন্য যে জমি আছে সেখানেও একটি পারিবারিক মন্দির করব শিগগিরই।

সত্যজিতকে চিনি। মোশাররফ ভাইয়ের এপিএস থাকা অবস্থায় কয়েকবার আমায় টেলিফোন করেছেন।

আমার বাড়িটি কেনাবেচার কথা যখন হয় তখন সত্যজিত টেলিফোন করে জানতে চেয়েছে আমার মূল বাড়ির সামনের দিকে একতলা যে হলুদ রয়ের ছোট বাড়িটি আছে এই জায়গা আমি বিক্রি করেছি কি-না? ওই বাড়িতে বসবাসরত প্রণব কুমার মুখার্জির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা কি?

বোয়ালমারী উপজেলার প্রণব কুমার মুখার্জি ও তার পরিবার বহু বছর ধরে আমাদের অনুমতি নিয়েই বাড়ি করে বসবাস করছিল। আসলে আমি এই পরিবারকে থাকার অনুমতি দিয়েছিলাম যাতে অন্য কেউ ঢুকে না পড়ে সেই চিন্তা থেকেও। তো সত্যজিত জানতে চাইছিল, আমি প্রণবদের কাছে জায়গা বিক্রি করেছি কি-না। যে দু’তিনবার কথা হয়েছে তাতে আমি পরিষ্কারই বলেছি না প্রণব আমাদের কাছ থেকে জায়গা কেনেননি। অনুমিত দখলদারমাত্র।

ফেসবুক কি আমি বুঝি না। তবে আমার মেয়ে এটা বোঝে। ওর কাছে শুনেছি এ কথা। আমরা পরিবারে এই আলোচনা করছি, মিথ্যাচারেরও একটা সীমা থাকে। আমি পুরনো বাড়িটি বিক্রি করেছি। দখলের প্রশ্ন আসছে কোত্থেকে? আর দখলের বিরোধিতার তো প্রশ্নও ওঠেনা। ফরিদপুরের আরও অনেকের মতো আমিও জানি, সত্যজিতকে অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে মন্ত্রী মহোদয় বরখাস্ত করেছেন। বাদ দিয়েছেন। সস্তা প্রচারের জন্য আমার বাড়ি বিক্রির সঙ্গে সত্যজিতের চাকরি যাওয়ার বিষয় মেলানো অবান্তর। সত্যজিত যদি এটা বলে থাকে তাহলে এটা হীনস্বার্থে করেছে। এখানে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।

ফরিদপুরের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কোনো নেতার সাথে আমার যোগাযোগই নেই। বাড়ি বিক্রি নিয়ে তাদের কারো সাথে কখনোই কোনো আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

আপনারা অনেক কিছুই জানেন না। তাই সস্তা প্রচার, অপপ্রচারকে গুরুত্ব দিয়ে ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন করছেন। মোশাররফ ভাই ও ওই পরিবারের সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। ধমক, চাপ, হুমকি এসব আমরা কেউ কখনো চিন্তাও করি না, ওনারাও করেন না।

একটা ঘটনার কথা বলি। তখন নুরু চাচা (খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পিতা) বেঁচে আছেন। আমার স্ত্রী ইলেকট্রিক হিটারের চুলায় রান্না করতেন। কিভাবে যেন বিদ্যুৎ বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে খবর গেছে। ম্যাজিস্ট্রেট গাড়ি নিয়ে, লোকজন নিয়ে হাজির। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। আমার স্ত্রী দৌড়ে গেলেন নুরু চাচার বাড়িতে, উনি তখন ভাত খাচ্ছেন। সব শুনে ভাত হাতেই ছুটে এলেন। ম্যাজিস্ট্রেটকে বললেন, এ আমার মেয়ে। এর বিরুদ্ধে মামলা হলে আমরা কিন্তু বসে থাকবো না! ম্যাজিস্ট্রেট যা বোঝার বুঝে গেলেন। ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে ফেরত গেলেন। আমার মেযের ডাক নাম বন্যা। এটাও নুরু চাচার দেওয়া। আমার মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছে। এই কদিন আগেও এক পাত্রের সন্ধান দিয়েছেন মোশাররফ ভাইয়ের এক বোন।

দুই পরিবারের সম্পর্ক সুগভীর। টাকার প্রয়োজনে জায়গা বিক্রি করেছি। নায্যমূল্য পেয়েছি। বুঝেশুনেই মোশাররফ ভাইকে প্রস্তাব দিয়েছি। যারা অপপ্রচার করছেন, তারা কারো কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়েছেন বলে মনে করি। এটা ঠিক হয়নি।

আমার জায়গা, আমার বাড়ি। আমি তো কোনো অভিযোগ করিনি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কোথায় পেল এই আজগুবি তথ্য! জেলা প্রশাসন তদন্ত করে যে সত্য পাবে তা তো প্রমাণ হবে আমি পুরনো বাড়িটি বিক্রি করেছি। লেনদেন হয়েছে। কিন্তু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ তো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এই সংগঠন এভাবে যা খুশি তাই অভিযোগ করতে পারে? এটা কি কারো স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যে? ওই সংগঠনের অপপ্রচারের কারণে যে মোশাররফ ভাইয়ের মতো একজন সুনামধারী রাজনীতিক, মন্ত্রীর সুনাম বিনষ্টের চেষ্টা করল কিছু লোক, তার কি হবে? কারো মিথ্যা তথ্যে প্ররোচিত হয়ে এভাবে বলাটা মোটেও উচিত হয়নি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের। কেউ এমন তথ্য দিলে তাদের উচিত ছিল, তা ভালোভাবে যাচাই করা

বলা হলো, অরুণ গুহ মজুমদার কোনদিন ভারতে যাননি, আর এখন চলে গেলেন? কে বলেছে আমি কোনদিন ভারতে যাইনি। বেশ কয়েকবার গিয়েছি। অন্তত ৫ বার গিয়েছি। যিনি বা যারা আমার হীতাকাক্সক্ষী সাজতে চাইছেন, কোনদিন কি তিনি বা তাদের সংগঠন আমার কোন কাজে পাশে ছিলেন? সস্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে আমার বিক্রি করা পুরনো বাড়ি দখল হয়ে যাওয়ার কল্পকাহিনি প্রচার করলেন তারা কি কাজটা ভালো করলেন? তারা কি উস্কে দিতে চাইলেন? ঘোলাজলে আসলে কি শিকারের উদ্দেশ্য আছে? এই প্রশ্নই করতে চাই।

আগেই বলেছি, রাজেন্দ্র কলেজের মূল গেটের বিপরীতে জমি আছে। সেখানে নতুন করে বাড়ি করব। ভাজনডাঙ্গায়ও জমি আছে। ওই জমি নিয়ে এখনো মামলা মোকদ্দোমা চলছে।

বাংলাদেশ আমার দেশ। ছিলাম, আছি, থাকব। যারা আমাকে নিয়ে এসব অপপ্রচার চালিয়েছেন তারা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করেছেন। ভারতে বসবাসের প্রশ্ন যারা তুলেছেন তারা কোনো মতলব এটেছিলেন বলেই এভাবে প্রচারের চেষ্টা করেছেন। একটি কথা বলতে চাই, আমার দাদু সতীশ চন্দ্র মজুমদার ফরিদুরের প্রথম পৌরসভা চেয়ারম্যান। তিনি ফরিদপুর শহরের সেরা আইনজীবি ছিলেন তার আমলে। আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। আমরা ভেসে আসিনি, আমাদের নিয়ে এসব অপপ্রচারের মানে কি? আমরা যা খুশি তাই বলতে শিখিনি। মিডিয়ার কাছে অনুরোধ, যারা এসব অপ্রচারের চেষ্টা চালিয়েছে দয়া করে তাদের খোঁজ করুক। তাদের উদ্দেশ্য বের করার চেষ্টা করুন।

আমার মেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিওলজিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে। বরোদার এম এস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো এম.ফিল করার জন্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছে ওর। জাহাঙ্গীরনগরে সার্কুলার হলেই সে আবেদন করবে। আমরা এসব নিয়ে ভাবছি।

আর কি বলবো? শুধু বলতে চাই জ্ঞানী লোকেরা কেন প্ররোচিত হবেন? সুক্ষ্মভাবে একটি গোষ্ঠী, অপ্রচার করে সাময়িক ফায়দা নিতে চাইলো। এমন যেন না হয় আর।

 

প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম সাংবাদিক আরিফ ইসলাম।
প্রকাশক: ওয়াহিদ সোহেল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ইবনে সৈয়দ পিন্টু।
নির্বাহী সম্পাদক : রাজিব খান। বার্তা সম্পাদক : রুমন রহমান
যোগাযোগ : ১০৭/১, কাকরাইল, ঢাকা-১২১৭।
ইমেইল : AmarFaridpur@gmail.com