এবছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন আসা করছেন কৃষক বিভাগ

কে এম রুবেল, ফরিদপুর।
ফরিদপুর জেলার চলতি রবি মৌসুমে চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে অপেক্ষাকৃত উচু জমিতে কার্তিক মাসের প্রথম সম্পাহ থেকে শুরু হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। নতুন পেঁয়াজ উঠার সময় বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী না করার আহবান চাষীদের।

ফরিদপুর জেলার চরঞ্চলের চাষীরা এখন মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে ব্যস্তসময় পার করছেন। পেঁয়াজ আবাদে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফরিদপুর অঞ্চলে পেঁয়াজের আবাদ। উন্নত জাত এবং মানসম্পন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য ফরিদপুর জেলা দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন আসা করছে চাষীরা। চাষীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পেঁয়াজের বীজ রোপন, পেঁয়াজ খেতে পরিচর্যার কাজে। ফরিদপুর জেলায় তিন ধরনের পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ, হালি পেঁয়াজ ও দানা পেঁয়াজ। 

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায় চলতি বছর ফরিদপুর জেলায় ৩৫হাজার কেক্টোর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষমাত্র ধরা হয়েছে। এখন চলছে মুড়িকাঠা পেয়াজের আবাদ। ইতোমধ্যেই প্রায় ছয় হাজার হেক্টোর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এখনও চরছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ।

কৃষক মো. বক্তার হোসেন খান বলেন, র্বষার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে উচু জমিতে আমরা মুড়িকাটা পেয়াজের আবাদ শুরু করেছি। আসা করছি ফলন ভাল পাব। গতবছর পেঁয়াজের ভাল দাম পেয়েছিলা। আর সেজন্য চলতি বছর আরও বেশী জমিতে মুড়িকাটা পেয়াজের আবাদ করেছি। আর কয়েকদিন পরেই মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলতে পারব। আমাদের পেঁয়াজ যখন উঠবে, তখন যেন সরকার বাহির (বিদেশ) থেকে পেঁয়াজ আমদানি নাকরে। বাহির থেকে পেঁয়াজ আমদানী না করলে আমরা লাভবান হব।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবুল বাসার মিয়া বলেন, ফরিদপুর জেলা প্রায় প্রতিটি উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলার চরাঞ্জলের চাষীরা ব্যাপক হারে মুড়িকাটা পেয়াজের আবাদ করেছে। আর কৃষি বিভাগ চাষীদের পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা করা হয়েছে। আসা করছি উৎপাদন ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। আর আগাম পেঁয়াজের দাম সবসময় ভাল পাওয়া যায়। চরতি বছর পেয়াজের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার হেক্টোর জমিতে। আমরা আসা করছি লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যাবে।

কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ফরিদপুর জেলায় তিন ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে। এখন চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। কিছুদিন পর শুরু হবে দানা পেঁয়াজের আবাদ এবং ডিসেম্বরের মাঝা মাঝি সময়ে শুরু হবে হালিপেঁয়াজের আবাদ। পেঁয়াজ আবাদে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রনোদনা, প্রশিক্ষণসহ সবধরনের সহযোগিতা করা হয়।

নতুন পেঁয়াজ উঠার সময় বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী না করার দাবী জানিয়েছেন ফরিদপুর অঞ্চলের কৃষকেরা। বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী না করলে ফরিদপুর অঞ্চলের চাষীরা অনেক লাভবান হবেন বলে মনে করছেন তারা।

প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম সাংবাদিক আরিফ ইসলাম।
প্রকাশক: ওয়াহিদ সোহেল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ইবনে সৈয়দ পিন্টু।
নির্বাহী সম্পাদক : রাজিব খান। বার্তা সম্পাদক : রুমন রহমান
যোগাযোগ : ১০৭/১, কাকরাইল, ঢাকা-১২১৭।
ইমেইল : AmarFaridpur@gmail.com