ফরিদপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ২ শতাধিক আক্রান্ত

শহর প্রতিনিধি, ফরিদপুর। শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

ফরিদপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রতিদিন কয়েকশ মানুষ চিকিত্সা নিচ্ছে। তাছাড়া রোগীর চাপ বাড়ায় সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। তবে চিকিত্সকরা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে ডায়রিয়ায় ১২ ঘণ্টায় আক্রান্ত শতাধিক রোগী ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও শতাধিক মানুষ। ফরিদপুর জেলা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অনেক রোগী হাসপাতালটিতে আসছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে স্বল্প সংখ্যক ডায়রিয়া রোগীর আসন থাকায় অনেককে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় রাখা হয়েছে। অনেক রোগী হাসপাতালে সিট না পেয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন কয়েকশ রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন। জেলা সদর ছাড়াও উপজেলার সরকারি হাসপাতালেও প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সেবিকা নূরুন নাহার বেগম জানান, শনিবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে বারটা পর্যন্ত হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছে ৭৩ জন। এছাড়াও অনেক রোগী এখানে সিট না পেয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. গনেশ কুমার আগওরাল জানান, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আমাদের সিট সংখ্যা রয়েছে ১৮টি, যা খুবই অপ্রতুল। গত দুই দিনে ফরিদপুর জেলা ছাড়াও বাইরে থেকে ডায়রিয়ার আক্রান্ত প্রচুর রোগী এসেছেন। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. সৈয়দ ওবায়দুর রহমান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো খাবার বিশেষ করে পানিসহ বিভিন্ন খাদ্য পণ্যের বিষয়ে বেশি করে সচেতন থাকতে হবে। তবেই ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকা যাবে। তবে এটা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে রোগীদের স্বজনরা জানান, গত কয়েক দিনে ঋতু পরিবর্তনের ফলে ঠাণ্ডার কারণে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তারা পাতলা পায়খানা করছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ হিস সায়াদ জানান, ডায়রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রোটা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি এ সময় শিশুদের উষ্ণ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখাসহ নিরাপদ পানি পান করানোর পরামর্শ দেন।

প্রতিষ্ঠাতা : মরহুম সাংবাদিক আরিফ ইসলাম।
প্রকাশক: ওয়াহিদ সোহেল।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ইবনে সৈয়দ পিন্টু।
নির্বাহী সম্পাদক : রাজিব খান। বার্তা সম্পাদক : রুমন রহমান
যোগাযোগ : ১০৭/১, কাকরাইল, ঢাকা-১২১৭।
ইমেইল : AmarFaridpur@gmail.com